
রোববার (২৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলেছেন বগুড়ার শান্তাহারের বাসিন্দা মরহুম জালাল হোসেনের মেয়ে ও মনোনীত উত্তরাধিকারী (নমিনি) মোছা. চুমকি আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী চুমকি আক্তার জানান, তার বাবা মেটলাইফে একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেছিলেন। ২০২২ সালে মাসিক প্রায় ২২ হাজার টাকা করে দুটি কিস্তি পরিশোধ করার পর তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর নমিনি হিসেবে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়ে বিমা দাবি করেন চুমকি।
কিন্তু মেটলাইফ থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, পলিসি গ্রহণের সময় ‘ভুল তথ্য’ দেওয়া হয়েছিল, তাই দাবিকৃত ৪৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, "একই সময়ে গার্ডিয়ান লাইফ ও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে করা আমার বাবার অন্য দুটি বিমা বা সঞ্চয়ের টাকা কোনো জটিলতা ছাড়াই পেয়েছি। কিন্তু মেটলাইফ আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে চরম হয়রানি করছে।"
হয়রানির ভয়ংকর বিবরণ দিতে গিয়ে চুমকি জানান, আইনি নোটিশ পাঠানোর পর তিনি মেটলাইফের মতিঝিল কার্যালয়ে যান। সেখানে ‘আলি’ নামের এক কর্মকর্তা মামলা না করার পরামর্শ দিয়ে তাকে কৌশলে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করান এবং নতুন ব্যাংক হিসাব নম্বর নেন।
পরে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ৪৪ লাখ টাকার মূল বিমা দাবির বদলে মাত্র ৪৪ হাজার টাকা পরিশোধের কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ওই টাকাই তার হিসাবে জমা হবে।
চুমকি আক্তার বলেন, "আমি কখনো ৪৪ হাজার টাকা নেওয়ার সম্মতি দিইনি। এটি ছিল কেবল আমাদের জমা দেওয়া প্রিমিয়ামের অর্থ। অথচ তারা কৌশলে কম টাকায় পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তির ফাঁদ পেতেছে।"
ভুক্তভোগী নারী জানান, এই জালিয়াতির প্রতিবাদ করতে গেলে ওই কর্মকর্তা তার মূল কাগজপত্র ফেরত দেননি। উল্টো আইনজীবীর মাধ্যমে যা করার করতে বলে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাকে ফোনে ব্লক করে দেন।
নিরুপায় হয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ (আইডিআরএ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি চুমকি আক্তার।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মেটলাইফ ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ৪৪ লাখ টাকার ন্যায্য দাবি আদায়ে কঠোর আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই ভুক্তভোগী।