দেশের বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে আজ মঙ্গলবার হাইকোর্ট একটি তাৎপর্যপূর্ণ রুল জারি করেছেন। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানতে চেয়েছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এই আদেশের মধ্য দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়টি এখন আদালতের কাঠগড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্তগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে রিটকারীদের যুক্তিতর্ক আমলে নিয়েছেন আদালত।
এর আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোটের পরিকল্পনা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম এই রিটগুলো দায়ের করেন। তাঁদের প্রধান দাবি ছিল, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বর্তমান প্রক্রিয়াটি প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে আদালত রুল জারি করার পাশাপাশি রিটের ওপর বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে আরও একটি রিট দায়ের করেছিলেন, যেখানে জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে এর কার্যকারিতা স্থগিতের দাবি জানানো হয়। ওই রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের নেওয়া সংস্কার পদক্ষেপগুলো যখন মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের পথে, ঠিক তখনই উচ্চ আদালতের এই রুল জারি আইনি অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিবাদীদের পক্ষ থেকে এই রুলের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন