বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির (সনদপ্রাপ্তি) লিখিত পরীক্ষার প্রথম রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই রায়ের ফলে প্রথম রিভিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় রিভিউয়ের মারপ্যাঁচে বাদ পড়া ভুক্তভোগী প্রার্থীদের সরাসরি মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বে জারি করা রুলকে চূড়ান্ত ও যথাযথ (Absolute) ঘোষণা করে উচ্চ আদালত আজ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটকারী পরীক্ষার্থীদের পক্ষে অত্যন্ত জোরালো শুনানি করেন দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল এবং ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম।
বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার এই আইনি লড়াইয়ের মূল তথ্য ও কালপঞ্জি নিচে তুলে ধরা হলো:
রিট দায়েরের পটভূমি: বার কাউন্সিলে আইনজীবী সনদ পেতে লিখিত পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত গত বছরের ১৮ নভেম্বর একটি রিভিউ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ফলাফল আকস্মিকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংক্ষুব্ধ ৬৩২ জন পরীক্ষার্থী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।
বার কাউন্সিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত: গত বছরের ২৪ নভেম্বর বার কাউন্সিল এক জরুরি সভায় ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রথম রিভিউয়ের ফলাফল সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করে। এরপর রিভিউ আবেদনকারী প্রতিটি প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র আবারও (দ্বিতীয়বার) পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় রিভিউয়ের নতুন ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্টের রায়: আদালত বার কাউন্সিলের সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করায় প্রথম রিভিউয়ের ফলাফলই এখন বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে প্রথম রিভিউ পরীক্ষায় যারা পাস করেছিলেন কিন্তু দ্বিতীয় রিভিউতে অনুত্তীর্ণ দেখানো হয়েছিল, তাদের আইনি জটিলতা কেটে গেল এবং তারা সরাসরি ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, বার কাউন্সিল কর্তৃক দ্বিতীয় রিভিউয়ের ফলাফল ঘোষণার পর সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ইতোমধ্যে ভাইভা পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে মাঝখান থেকে প্রথম রিভিউতে পাস করা ৬৩২ জন পরীক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন। হাইকোর্টের এই যুগান্তকারী রায়ের পর ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রার্থীদের মাঝে দীর্ঘদিনের জটলা ও হতাশা কেটে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রিটকারীদের আইনজীবীরা জানান, এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা চাইলেই আইনসম্মতভাবে প্রকাশিত ফলাফল যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া বাতিল করতে পারে না। এখন বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে বাদ পড়া পরীক্ষার্থীদের ভাইভা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
মন্তব্য করুন